ঢাকা , মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬ , ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন্দুয়ায় আওয়ামী ঘরানার তাহমিনা এখন উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক!


আপডেট সময় : ২০২৫-১০-২০ ১৫:২৮:২০
কেন্দুয়ায় আওয়ামী ঘরানার তাহমিনা এখন উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক! কেন্দুয়ায় আওয়ামী ঘরানার তাহমিনা এখন উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক!
স্টাফ রিপোর্টারঃ 

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় সদ্য ঘোষিত উপজেলা মহিলা দলের অনুমোদিত কমিটিতে আওয়ামী লীগ ঘরানার এক নেত্রীকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।

এ ঘটনায় কেন্দুয়া উপজেলার ৩ নং দলপা ইউনিয়নের বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, চলতি বছরের গত ১৫ মার্চ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল, কেন্দুয়া উপজেলা শাখার অনুমোদিত কমিটিতে দলপা ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য তাহমিনা আক্তারকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে রাখা হয়, কিন্তু স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা দাবি করছেন, তাহমিনা আক্তার অতীতে আওয়ামী মহিলা লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বহু নেতাকর্মীকে হয়রানি করেছিলেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, বিভিন্ন ধরনের হয়রানি এবং দলের ব্যানার-পোস্টারে আওয়ামী নেতাদের ছবি ব্যবহার করেছেন।

বিষয়টি উল্লেখ করে ৩ নং দলপা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আব্দুল লতিফ বিল্টু ও সাধারণ সম্পাদক মাসুদুর রহমান রুবেল চলতি বছরের ২১ মে 
 বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মহিলা দল নেত্রকোণা জেলা শাখার সভাপতি ও সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিলেন। অভিযোগে আওয়ামী ঘরানার তাহমিনা আক্তারকে বিএনপির যেকোনো পদে রাখা দলের ভাবমূর্তি নষ্ট করবে। তাই আমরা তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছি।

আরও উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের পূর্বে তাহমিনা আক্তারের আওয়ামী নেতাদের ছবি সম্বলিত ব্যানার ও পোস্টারের প্রমাণ সংগঠনের হাতে রয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীরা দ্রুত এই বিষয়ে জেলা মহিলা দলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন, যাতে দলের ভাবমূর্তি ও ঐক্য অক্ষুণ্ণ থাকে।


দলপা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিল্টু বলেন,তাহমিনা আক্তার আওয়ামী লীগ শাসনামলে বিএনপির নেতা-কর্মীদের উপর মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা সভাপতি নুরুল ইসলামের পুত্র ইউপি চেয়ারম্যান শাহীন আলমের সাথে আতাত করে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
কেন্দুয়া উপজেলা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি নাসিমা  আক্তার বলেন, তাহমিনা আক্তার আওয়ামী লীগ শাসনামলে মহিলা লীগের কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। তার কারণে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারেননি। তিনি বিএনপি নেতা-কর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করেছেন। এখন আবার আমাদের দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন- আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

তিনি আরও জানান, এই কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে আমাকে জানানো হয়নি। কাকে সদস্য করা হয়েছে তাও জানি না। কমিটি করেছেন উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নুরনাহার আক্তার চায়না।”

উপজেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক নুরনাহার আক্তার চায়না সাংবাদিকদের বলেন, আমার জানামতে তাহমিনা আক্তার আওয়ামী লীগ বা মহিলা লীগের নেত্রী ছিলেন না, তবে তিনি যেহেতু জনপ্রতিনিধি তাই সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেই হয়। ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বিল্টু ভাই-ই তার নামটা কমিটিতে দিয়েছিলেন।
ইউপি সদস্য ফারুক মিয়া এক কথার প্রসঙ্গে
বলেন, গত জুন-জুলাইয়ে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ইউপি সদস্যদের কোনো প্রজেক্ট দেওয়া হয়নি, সেই তালিকায় তাহমিনার নামও ছিল। এখন মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পরই তাকে দলপা-ইটাউতা সড়কে একটি রাস্তা প্রজেক্ট দেওয়া হয়েছে।

ইউপি সদস্য হেবলু বলেন, তাহমিনা আক্তার আগে আওয়ামী লীগের সমর্থিত ছিলেন। ২৪ জুলাইয়ের পর তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। তার ফেসবুক প্রোফাইলে আগে আওয়ামী লীগের পোস্ট ছিল, যা আমি নিজে কিছুদিন আগে ডিলিট করে দিয়েছি।

উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তাহমিনা আক্তার বলেন, একটা ব্যানারে যদি ছবি আছে বলেই কি আওয়ামী লীগ প্রমাণ হয়ে গেল, আমি আওয়ামী লীগের নেত্রী ছিলাম না, আমি বর্তমানে কেন্দুয়া উপজেলা মহিলা দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযাগ করলে তিনি মিটিং এ আছি এই বলে ফোন কেটে দেন। 

স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, দলীয় ঐক্য ও ভাবমূর্তি রক্ষায় এই বিষয়ে দলের হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

মাজহারুল ইসলাম উজ্জ্বল
নেত্রকোণা
০১৭১৬৪২৫৪৩৫
১৯-১০-২০২৫

নিউজটি আপডেট করেছেন : lifestyledesign847@gmail.com

কমেন্ট বক্স

প্রতিবেদকের তথ্য

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ